Blog
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহবান মুবারক-এ সাড়া দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরয; এমনকি পবিত্র নামাযে থাকাকালীন সময়েও (৩)
এমন কি পবিত্র নামাযরত অবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহবান মুবারক-এ সাড়া দিলে পবিত্র নামায বাতিলও হবে না। এ প্রসঙ্গে কিতাবে বর্র্ণিত রয়েছেন,
وَفِى الْحَدِيْثِ دَلِيْلٌ عَلٰى اَنَّ اِجَابَةَ الرَّسُوْلِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى الصَّلٰوةِ لَا تُبْطِلُ الصَّلٰوةَ
অর্থ: “আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এ বিষয়ে দলীল মওজুদ রয়েছেন যে, নিশ্চয়ই পবিত্র ছলাত উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহবান মুবারক-এ সাড়া দিলে পবিত্র নামায বাতিল হবে না।” সুবহানাল্লাহ! (শরহুস সুন্নাহ ৪/৪৪৮)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন-
هٰذَا دَلِيْلٌ عَلٰى اَنَّ اِجَابَةَ الرَّسُوْلِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا دَعَا اَحَدًا فِى الصَّلٰوةِ لَا تُبْطِلُ الصَّلٰوةَ كَمَا اَنَّكَ تُخَاطِبُ الرَّسُوْلَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى الصَّلٰوةِ تَقُوْلُ سَلَامٌ عَلَيْكَ اَيُّهَا النَّبِىُّ
অর্থ: “আর এটা হচ্ছে তার দলীল যে, নিশ্চয়ই যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাউকে সম্মানিত আহবান মুবারক করেন এবং সে পবিত্র ছলাত উনার মধ্যেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহবান মুবারক-এ সাড়া দেয়। তাহলে তার নামায বাতিল হবে না। যেমনিভাবে আপনি পবিত্র নামায উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করেন। আপনি বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার প্রতি সম্মানিত সালাম মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (আল মাফাতীহ ফী শরহিল মাছাবীহ ৩/৭০)
আরো বর্ণিত রয়েছেন-
وَاِجَابَةُ الرَّسُوْلِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى الصَّلٰوةِ لَا تُبْطِلُ الصَّلٰوةَ
অর্থ: “আর পবিত্র ছলাত উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহবান মুবারক-এ সাড়া দিলে নামায বাতিল হবে না।” সুবহানাল্লাহ! (শরহুল মিশকাত লিত্ব তীবী ৩/১০৮৪)
এখানে ফিকিরের বিষয় হচ্ছে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র নামায উনাকে মু’মিনের মি’রাজ বলা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি পবিত্র নামাযে থাকার অর্থ হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার যিয়ারত মুবারক-এ থাকা। কিন্তু ঐ অবস্থায়ও যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত আহবান মুবারক করেন, তাহলে তার জন্য ফরয হচ্ছে- নামায ছেড়ে দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহবান মুবারক-এ সাড়া দেয়া। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতটুকু বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছেন সেটা কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও ফিকিরের উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদেরকেসহ কুল কায়িনাতবাসী সকলকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুজুর্গী-সম্মান মুবারক জানার, বুঝার, উপলব্ধি করার এবং সে অনুযায়ী উনাকে তা’যীম-তাকরীম মুবারক করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন! (সমাপ্ত)